The website is currently under development
বাংলাদেশে ব্রিটেনই ইতোমধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী। তাহলে সিলেটে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক অঞ্চল নয় কেন?
বৃহত্তর সিলেটে যুক্তরাজ্যকেন্দ্রিক একটি অর্থনৈতিক ও উদ্ভাবন অঞ্চল গঠনের যুক্তি শুধু প্রবাসী আবেগের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। বাংলাদেশে একক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যেরই রয়েছে সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই স্টক। আর সিলেটের রয়েছে এমন এক সম্পদ, যা অন্য কোনো দেশভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল সহজে তৈরি করতে পারবে না: ব্রিটেনে গড়ে ওঠা বহু প্রজন্মের একটি পরিণত সিলেটি সম্প্রদায়, যারা দুই অর্থনীতির মধ্যে পুঁজি, দক্ষতা, প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক আস্থার সেতু হতে পারে।
ALL TOPICSCLIMATE, ENVIRONMENT & PLACEECONOMICS, BUSINESS & WORKMURSHED AHMED
Murshed Ahmed
8/7/20262 মিনিট পড়ুন


বাংলাদেশ তার প্রবাসীদের নিয়ে সাধারণত একটি পরিচিত ভাষায় কথা বলে। সফল প্রবাসীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়, পুরস্কৃত করা হয়, সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং দেশে অর্থ পাঠানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। তাঁদের অবদানকে উষ্ণ ভাষায় স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু এই সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপ দেওয়ার মতো প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্র খুব কমই গড়ে তুলেছে।
ব্রিটিশ-সিলেটি সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই শূন্যতা আরও স্পষ্ট। যুক্তরাজ্য এমন কোনো প্রান্তিক বিনিয়োগকারী নয়, যাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বোঝাতে এখনো নতুন করে রাজি করাতে হবে। বাংলাদেশে একক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যই ইতোমধ্যে সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের উৎস।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এফডিআই জরিপ অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষে দেশে মোট ইনওয়ার্ড এফডিআই স্টক ছিল প্রায় ২০.০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অংশ ছিল ৩.২২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মোটের ১৬ শতাংশ, যা সিঙ্গাপুর, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও নেদারল্যান্ডসের চেয়ে বেশি।[১] ব্যাংক অব স্কটল্যান্ডের একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নির্দেশিকায়, কিছুটা আগের সময়ের তথ্য ব্যবহার করে, যুক্তরাজ্যের অংশ প্রায় ১৭ শতাংশ বলা হয়েছে।[২] প্রতিবেদনকাল বদলালে শতকরা হার কিছুটা ওঠানামা করে, কিন্তু কৌশলগত বাস্তবতা বদলায় না: একক দেশ হিসেবে ব্রিটেনই প্রথম স্থানে।
এ তথ্য নীতিগত প্রশ্নটিকেই বদলে দেয়। বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নতুন কোনো বিনিয়োগ সম্পর্ক সৃষ্টি করতে যাচ্ছে না। সম্পর্কটি ইতোমধ্যেই আছে। এখন প্রয়োজন সেটিকে গভীর করা, খাতভিত্তিকভাবে বহুমুখী করা এবং বাংলাদেশের এমন একটি অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা, যার সঙ্গে ব্রিটেনের মানবিক ও সামাজিক সম্পর্ক অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় অনেক গভীর।
বৃহত্তর সিলেটে একটি ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ও উদ্ভাবন অঞ্চল ঠিক এই কাজটিই করতে পারে।
এফডিআইয়ের তথ্যটি পুরো যুক্তিকেই বদলে দেয়
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিতে ব্রিটেনের এই অবস্থান তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগের আলোচনা শুরু হলেই সাধারণত চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, উপসাগরীয় দেশগুলো কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের কথা সামনে আসে। এসব দেশ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, এবং কয়েকটিকে দেশভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সঞ্চিত বিনিয়োগের চিত্র অন্য কথা বলে।
২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের এফডিআই স্টক ছিল ৩.২১৮ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের ছিল ২.২৫৪ বিলিয়ন ডলার; চীনের ১.৯১৭ বিলিয়ন; দক্ষিণ কোরিয়ার ১.৮৩৮ বিলিয়ন; এবং নেদারল্যান্ডসের ১.৮০৭ বিলিয়ন ডলার।[১] অর্থাৎ ব্রিটেনের এগিয়ে থাকা কোনো প্রতীকী বিষয় নয়; তা পরিমাপযোগ্য।
বাংলাদেশের নিজস্ব বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষও ২০২৫ সালে লন্ডনে বিনিয়োগ প্রচারণার সময় একই বিষয় তুলে ধরে। তারা যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের শীর্ষ এফডিআই উৎস হিসেবে উল্লেখ করে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্রিটিশ এফডিআই স্টক ২.৯ বিলিয়ন ডলার বলে জানায়।[৩] এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী এই পরিমাণ আরও বেড়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পার্থক্য আছে। এফডিআই স্টক বলতে ইতিহাসে যত পাউন্ড বা ডলার বিনিয়োগ হয়েছে তার সরল যোগফল বোঝায় না। এটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশে বিদ্যমান প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের মূল্য। নীতিনির্ধারণের দিক থেকে এই সূচকই বেশি কার্যকর, কারণ এটি দেখায় কোনো বিনিয়োগকারী দেশের মালিকানা ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা কতটা স্থায়ী ও গভীর।
অন্য কথায়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অন্য যেকোনো একক বিদেশি দেশের তুলনায় যুক্তরাজ্যের পুঁজি বেশি গভীরভাবে যুক্ত। অথচ এই সম্পর্কের এখনো এমন কোনো দৃশ্যমান ভৌগোলিক রূপ নেই, যা আড়াইহাজারের জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল বা আনোয়ারার চীনা অঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
প্রস্তাবটি এই নয় যে ইতিহাসের কারণে বাংলাদেশ ব্রিটেনকে বিশেষ সুবিধা দেবে। বরং এমন একটি বিনিয়োগ সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে, যা একক দেশ হিসেবে ইতোমধ্যেই অন্য যেকোনো সম্পর্কের চেয়ে বড়।
ছবি: তালহা চৌধুরী, সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
ব্রিটেনকে একটি অঞ্চল আগেও প্রস্তাব করা হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তব রূপ পায়নি
বাংলাদেশে কোনো সরকার কখনো ব্রিটিশ অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে ভাবেনি, এমন বলা সঠিক হবে না। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং উল্লেখ করেছিলেন যে অন্য দেশগুলোর জন্যও বাংলাদেশ দেশভিত্তিক জমি বরাদ্দ করেছে।[৪]
কিন্তু সেই প্রস্তাব থেকে কার্যকর কোনো ব্রিটিশ অঞ্চল গড়ে ওঠেনি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিনিয়োগ পাইপলাইনকে ঘিরে নির্দিষ্ট সাইট তৈরি হয়নি, জাপানি মডেলের মতো যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো হয়নি, খাতভিত্তিক ক্লাস্টার কৌশল তৈরি হয়নি এবং ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্ট স্থানের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত করার কোনো কর্মসূচিও দাঁড়ায়নি।
এই অভিজ্ঞতা একটি জরুরি পার্থক্য শেখায়: বিনিয়োগ ঘোষণা আর বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এক জিনিস নয়। শুধু নাম দিলেই কোনো অঞ্চল সৃষ্টি হয় না। প্রয়োজন বাস্তবে উন্নয়নযোগ্য জমি, নিশ্চিত ইউটিলিটি, পরিবহন সংযোগ, পরিবেশগত নিশ্চয়তা, স্পষ্ট খাতভিত্তিক প্রস্তাব, স্বচ্ছ প্রণোদনা, বিনিয়োগ-পরবর্তী সেবা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বাস্তবায়ন দল।
দেশভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আরও দেখায় যে শুধু দেশের পতাকা লাগালেই সাফল্য নিশ্চিত হয় না। আড়াইহাজারের জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল ইতোমধ্যে কার্যক্রমরত প্রতিষ্ঠান ও বাড়তে থাকা বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে, অন্যদিকে কিছু প্রস্তাবিত দেশভিত্তিক অঞ্চল অনেক ধীরে এগিয়েছে বা শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়েছে। শিক্ষা খুব সহজ: পতাকার আগে দরকার বিনিয়োগকারীর জন্য বিশ্বাসযোগ্য ব্যবসায়িক প্রস্তাব।
কেন সিলেটই যৌক্তিক স্থান
প্রচলিত শিল্প পরিকল্পনার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের পরবর্তী বৃহৎ উৎপাদনকেন্দ্রের জন্য সিলেট প্রথম পছন্দ নয়। চট্টগ্রামের রয়েছে সমুদ্রবন্দর। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে রয়েছে বৃহত্তর শিল্পশ্রমবাজার ও সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক। ভারী শিল্পের জন্য মিরসরাইয়ের রয়েছে প্রয়োজনীয় পরিসর।
সিলেটের সুবিধা অন্য জায়গায়। এখানে এমন একটি অর্থনৈতিক সম্পদ আছে, যা বাংলাদেশের অন্য কোনো অঞ্চল তৈরি করতে পারবে না: যুক্তরাজ্যে বিস্তৃত, ঘন, বহু প্রজন্মের এবং পরিণত একটি সিলেটি নেটওয়ার্ক।
একাডেমিক গবেষণায় ধারাবাহিকভাবে সিলেটকে ব্রিটেনের বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রধান উৎস অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠের পারিবারিক শিকড় সিলেটে, এবং পরিবার, সম্পত্তি, দাতব্য কাজ, ব্যবসা ও নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমে এই সম্পর্ক এখনো সক্রিয়।[৫]
এই নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি সবসময় করের হার বা জমির দাম নয়; বরং অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাওয়া একটি মাঝারি আকারের ব্রিটিশ কোম্পানিকে স্থানীয় বিধিনিষেধ, চুক্তি, নিয়োগ, ব্যাংকিং, কাস্টমস, ব্যবসায়িক সংস্কৃতি, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক ঝুঁকি বুঝতে হয়। একটি বহুজাতিক কোম্পানি এই জ্ঞান কিনে নিতে পারে। ছোট বা মাঝারি প্রতিষ্ঠান অনেক সময় পারে না।
ব্রিটিশ-সিলেটি উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীরা এই অনিশ্চয়তা কমাতে পারেন। তাঁরা ব্রিটিশ কর্পোরেট প্রত্যাশা যেমন বোঝেন, তেমনি বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতাও বোঝেন। তাঁরা অংশীদার পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন, স্থানীয় ব্যবসায়িক রীতি ব্যাখ্যা করতে পারেন, বিশ্বস্ত ব্যবস্থাপনা খুঁজে দিতে পারেন, সম্ভাব্য স্থান মূল্যায়ন করতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে প্রায়ই ব্যর্থ করে দেওয়া সাংস্কৃতিক ভুলবোঝাবুঝি কমাতে পারেন।
এটি শুধু রেমিট্যান্সের চেয়েও মূল্যবান। এটি নিজেই এক ধরনের অর্থনৈতিক অবকাঠামো।
বাংলাদেশ প্রবাসীদের সম্মান জানিয়েছে বেশি, সংগঠিত করেছে কম
দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশের প্রবাসী নীতির কেন্দ্র ছিল তিনটি বিষয়: রেমিট্যান্স, সম্পত্তি এবং স্বীকৃতি। রাষ্ট্র বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে উৎসাহ দেয়, প্রবাসীদের জমি ও ফ্ল্যাট কেনায় আকৃষ্ট করে এবং সময় সময় সফল অনাবাসী বাংলাদেশিদের পুরস্কৃত করে।
এসব উদ্যোগের মূল্য আছে, কিন্তু এগুলো কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রবাসী বিনিয়োগ কৌশল নয়।
ব্রিটিশ-সিলেটি সমাজে এখন ব্যবসায়ী, অর্থনৈতিক খাতের পেশাজীবী, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিক রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই এমন প্রতিষ্ঠান ও পেশার ভেতরে কাজ করেন, যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজেই সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে। তবু সম্পৃক্ততা এখনো প্রায়ই খাত ও প্রকল্পের বদলে ব্যক্তি ও পরিচিতিনির্ভর।
একটি পুরস্কার ব্যক্তিগত সাফল্যকে স্বীকৃতি দেয়। একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সেই সাফল্যকে অর্থনৈতিকভাবে পুনরুৎপাদনযোগ্য করে।
তাই সরকারের উচিত প্রবাসী সম্পৃক্ততাকে প্রধানত আবেগের বিষয় হিসেবে দেখা বন্ধ করা। একজন সফল ব্রিটিশ-সিলেটি ব্যবসায়ীকে শুধু এই কারণে বিনিয়োগ করতে বলা উচিত নয় যে বাংলাদেশ তাঁর পূর্বপুরুষের দেশ। প্রস্তাবটি হতে হবে বাণিজ্যিক: বাংলাদেশ কী দিতে পারে, যা একটি ব্রিটিশ কোম্পানিকে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে, এশীয় বাজারে প্রবেশ করতে, পরিচালন ব্যয় কমাতে, নতুন পণ্য তৈরি করতে বা দক্ষ কর্মী পেতে সাহায্য করবে?
উত্তরটি বিশ্বাসযোগ্য হলে আবেগ তখন অর্থনীতির বিকল্প নয়, বরং অতিরিক্ত সুবিধা হয়ে ওঠে।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক ইতোমধ্যেই বড়, তবে ভারসাম্যহীন
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের তথ্যও একটি পরিকল্পিত বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা দেখায়। যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত চার প্রান্তিকে দুই দেশের পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ছিল ৪.৫ বিলিয়ন পাউন্ড, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।[১০]
তবে সম্পর্কটি বাংলাদেশের রপ্তানির দিকে অনেক বেশি ভারী। ওই সময়ে ব্রিটেন বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন পাউন্ডের পণ্য ও সেবা আমদানি করেছে, আর বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের রপ্তানি ছিল প্রায় ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড।[১০] যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির বড় অংশ এখনো পোশাক।
কিন্তু ব্রিটিশ রপ্তানির গঠন অন্য ধরনের সুযোগের ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড রপ্তানির মধ্যে ৪১৪ মিলিয়ন পাউন্ডই ছিল সেবা খাতের।[১০] অর্থাৎ পণ্যের তুলনায় বাংলাদেশের সেবা বাজারে ব্রিটেনের আপেক্ষিক অবস্থান অনেক শক্তিশালী।
এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্রিটেনের প্রতিযোগিতামূলক শক্তি মূলত কম খরচের ব্যাপক উৎপাদনে নয়। বরং আর্থিক সেবা, প্রকৌশল, স্থাপত্য, পেশাগত সেবা, উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, জীবনবিজ্ঞান, সৃজনশীল শিল্প, ব্যবস্থাপনা, মাননিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষায়িত উৎপাদনে।
তাই সিলেটের ব্রিটিশ অঞ্চলকে কোনো সাধারণ বাংলাদেশি শিল্পনগরীর নকশা নকল করে নয়, ব্রিটিশ অর্থনীতির বাস্তব শক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা উচিত।
ব্রিটেন শুধু পুঁজি নয়, আরও অনেক কিছু দিতে পারে
ব্রিটিশ-কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি এই নয় যে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের কাছে অন্য সবার চেয়ে বেশি অর্থ আছে। তা নয়। চীন, জাপান, উপসাগরীয় রাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রও বিপুল পুঁজির উৎস।
ব্রিটেনের স্বতন্ত্র শক্তি হলো বিনিয়োগের সঙ্গে আসা পুরো প্যাকেজটি।
যুক্তরাজ্যের পেশাগত স্বীকৃতি, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, পরিকল্পনা, প্রকৌশল, আর্থিক সেবা, বীমা, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যবস্থা রয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, মাননিয়ন্ত্রণ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত প্রতিবেদন, কর্মী উন্নয়ন এবং গ্রাহকসেবার পরিণত পদ্ধতি নিয়ে আসে।
এসবও উৎপাদনক্ষমতার অংশ। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ শুধু বিদেশি পুঁজির পরিমাণ বাড়ানো নয়; উৎপাদনশীলতা, ব্যবস্থাপনার মান ও অর্থনীতির জটিলতা বাড়ানোও জরুরি। যে বিনিয়োগ পদ্ধতি, দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করে, তা এমন সমপরিমাণ পুঁজির চেয়েও বেশি মূল্যবান হতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে খুব কম সংযোগ রেখে একটি বিচ্ছিন্ন এনক্লেভে বিনিয়োগ হয়।
যুক্তরাজ্য একই সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার। বাংলাদেশে ব্রিটিশ সরকারি কৌশলে উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি বিনিয়োগ নীতি, আর্থিক খাত সংস্কার ও ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্টও যুক্ত রয়েছে। ২০২২-২৬ সময়ে বাংলাদেশে ৪৫৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টকে।[১১]
একটি যুক্তরাজ্য-সিলেট অঞ্চল এই সবগুলো ধারা এক জায়গায় আনতে পারে: বাণিজ্যিক বিনিয়োগ, উন্নয়ন অর্থায়ন, কারিগরি দক্ষতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রবাসী নেটওয়ার্ক।
অঞ্চলটি আসলে কী করবে
প্রস্তাবটির নাম ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল’ হলেই তার ভৌত রূপ প্রচলিত শিল্পাঞ্চলের মতো হতে হবে, এমন নয়। বৃহত্তর সিলেটে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ও উদ্ভাবন অঞ্চল হওয়া উচিত তুলনামূলকভাবে কম্প্যাক্ট, বহুমুখী এবং সচেতনভাবে উচ্চ-মূল্য সংযোজনভিত্তিক।
ডিজিটাল ও বিজনেস সার্ভিসেস একটি প্রধান স্তম্ভ হতে পারে। বাংলাদেশে সফটওয়্যার ও আউটসোর্সিং খাত ইতোমধ্যেই বাড়ছে। ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো সিলেটকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, গ্রাহকসেবা, হিসাবরক্ষণ সহায়তা, ডিজাইন, ডেটা সেবা, সাইবার নিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের জন্য বিশেষায়িত ব্যাক-অফিস কার্যক্রমে ব্যবহার করতে পারে।
পেশাগত ও কারিগরি সেবা আরেকটি স্তম্ভ হওয়া উচিত। ব্রিটিশ প্রকৌশল, পরিকল্পনা, স্থাপত্য, পরিবেশ, সার্ভেয়িং, আইন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাংলাদেশের নগরায়ণ ও অবকাঠামো চাহিদার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। যৌথ উদ্যোগগুলো দেশীয় প্রকল্প ও বিদেশি বাজার উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করতে পারে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক মানে প্রশিক্ষণ দিতে পারে।
শিক্ষা ও দক্ষতাকে আলাদা নীতিখাত হিসেবে নয়, অঞ্চলের ভেতরেই অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও পেশাগত প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রয়োগভিত্তিক গবেষণা কর্মসূচি এবং নিয়োগদাতার সঙ্গে যুক্ত যোগ্যতা তৈরি করতে পারে। বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা শিক্ষানবিশ কর্মসূচি ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্য ও জীবনবিজ্ঞান আরেকটি স্বাভাবিক সেতু। ব্রিটিশ-সিলেটি সমাজে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসা পেশাজীবী রয়েছেন। ডায়াগনস্টিকস, চিকিৎসা প্রশিক্ষণ, টেলিমেডিসিন, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি, বিশেষায়িত ক্লিনিক এবং সহায়ক সেবায় এই নেটওয়ার্ক কাজে লাগতে পারে।
কৃষি-খাদ্য খাত সিলেটের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। চা, মাছ, লেবুজাতীয় ফল ও অন্যান্য আঞ্চলিক পণ্যের জন্য ব্রিটেনে ইতোমধ্যে প্রবাসী বাজার আছে। উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরীক্ষা, ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং ও কোল্ড-চেইন অবকাঠামো এই পরিচিত বাজারকে উচ্চ-মূল্যের রপ্তানিতে রূপ দিতে পারে।
বিমানসংশ্লিষ্ট সেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটন প্রযুক্তি এবং নির্বাচিত হালকা প্রকৌশলও এসব খাতকে পরিপূরক করতে পারে। লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন কর্মকাণ্ডের সমষ্টি, যা সিলেটের আন্তর্জাতিক সংযোগের সুবিধা নেবে কিন্তু ভারী শিল্পের মতো বিপুল জমি, বন্দরনির্ভরতা ও পরিবেশগত চাপ সৃষ্টি করবে না।
মুরশেদ আহমদ যুক্তরাজ্যভিত্তিক একজন সিনিয়র নগর পরিকল্পনাবিদ এবং রয়্যাল টাউন প্ল্যানিং ইনস্টিটিউটের চার্টার্ড সদস্য।
সময়টিও অস্বাভাবিকভাবে অনুকূল
প্রস্তাবটি ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির গতিপথের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ সংস্কারকে অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে। বিনিয়োগ সংস্থাগুলো বিদেশে প্রচারণা বাড়ায় এবং বিনিয়োগকারীর পুরো যাত্রাপথ সহজ করার চেষ্টা করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া বিএনপি সরকারও এই গুরুত্ব ধরে রেখেছে, উল্টো পথে যায়নি।
২০২৬ সালের মার্চে সরকার ব্যবসায়িক পরিবেশ, বিনিয়োগকারী সেবা এবং দেশের প্রধান বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর সমন্বয়কে কেন্দ্র করে ১৮০ দিনের বিনিয়োগ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করে।[৬] জুলাইয়ে সংসদ প্রধান বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসংক্রান্ত কার্যক্রমকে একটি শীর্ষ কাঠামোর অধীনে এনে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার আইন পাস করে।[৭] প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অস্বাভাবিকভাবে সরাসরি আহ্বান জানিয়ে জুলাইয়ে ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আমন্ত্রণ জানান।[৮]
এটাই সেই সময়, যখন একটি যুক্তরাজ্য-সিলেট প্রস্তাব পুরোনো কূটনৈতিক ধারণা থেকে বেরিয়ে নতুন বিনিয়োগ কাঠামোর পরীক্ষামূলক মডেল হতে পারে।
যুক্তরাজ্যও আগ্রহী। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ঢাকা সফরের সময় যুক্তরাজ্যের ট্রেড এনভয় ব্রিটেনকে বাংলাদেশের একটি প্রধান উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দ্বিমুখী বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দেন।[৯] যুক্তরাজ্যের নিজস্ব বাণিজ্য কৌশলও গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে গভীরতর প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব, দক্ষতা বিনিময় এবং বিনিয়োগ মোবিলাইজেশনের ওপর জোর দেয়।
সিলেটের ভূদৃশ্য সম্পদ হবে, কোনো পার্শ্ব-ক্ষতি নয়
প্রচলিত শিল্পাঞ্চল মডেল থেকে সরে আসার একটি পরিকল্পনাগত কারণও আছে। সিলেটের সবুজ ভূদৃশ্য তার পরিচয় ও অর্থনৈতিক মূল্যের অংশ। চা-বাগান, হাওর, নদী, জলাভূমি ও পাহাড় শিল্পে রূপান্তরের অপেক্ষায় থাকা ‘খালি জমি’ নয়।
ভুল জায়গায় স্থাপিত একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশের নগরায়ণের সবচেয়ে খারাপ প্রবণতাগুলো পুনরায় সৃষ্টি করতে পারে: জল্পনাভিত্তিক জমি কেনাবেচা, সড়কঘেঁষা অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার, জলনিষ্কাশন ব্যবস্থার ক্ষতি এবং পরিবেশ অবক্ষয়। এতে সেই স্থানগত গুণই নষ্ট হবে, যা উচ্চ-মূল্যের কর্মী, প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী আকর্ষণের জন্য প্রয়োজন।
তাই বিদ্যমান অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তি-নির্ধারিত জমিকে প্রথমে বিবেচনা করা উচিত। অঞ্চলটি গণপরিবহন-সংযুক্ত, কম্প্যাক্ট এবং অবকাঠামো-নেতৃত্বাধীন হতে হবে। টেকসই ড্রেনেজ, বর্জ্যপানি পরিশোধন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ল্যান্ডস্কেপ বাফার, কর্মীদের আবাসন ও গণপরিবহন শুরু থেকেই নকশার অংশ হওয়া উচিত।
ব্রিটিশ ব্র্যান্ডযুক্ত কোনো অঞ্চল যদি দুর্বল পরিবেশ বা শ্রমমান গ্রহণ করে, তবে যুক্তরাজ্যের বাজারেই প্রস্তাবটির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রকল্পটি যদি ব্রিটিশ দক্ষতা ও মানকে বিক্রয়যোগ্য শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তবে তার ভৌত উন্নয়নেও সেই মান প্রতিফলিত হতে হবে।
প্রবাসীরা হবে সেতু, বন্দী বাজার নয়
প্রথম বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ব্রিটিশ বাংলাদেশি হতে পারেন। এটি সুবিধা, কিন্তু উচ্চাকাঙ্ক্ষার সীমা হওয়া উচিত নয়।
দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষাটি হবে এই: লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল বা গ্লাসগোর এমন একটি কোম্পানি, যার কোনো বাংলাদেশি মালিকানা নেই, সে কি সিলেটকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর মনে করে? প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কাজ হবে সেই ইতিবাচক নজির তৈরি করা, যা এই সিদ্ধান্তকে সহজ করে।
এর জন্য পরিকল্পিত বিনিয়োগকারী আহরণ মডেল প্রয়োজন। সরকার ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি ব্যবসা, প্রবাসী উদ্যোক্তা, পেশাগত প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষকে নিয়ে একটি ‘ইউকে-সিলেট ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করতে পারে। এর প্রথম কাজ আরেকটি সম্মেলন করা নয়। বরং অল্পসংখ্যক বিশ্বাসযোগ্য অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করে সরাসরি জিজ্ঞেস করা: কোন শর্তগুলো পূরণ হলে তারা বিনিয়োগ করবে?
উত্তর হতে পারে বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্যতা, কাস্টমস, কর, মুনাফা প্রত্যাবাসন, বৈদেশিক মুদ্রায় প্রবেশাধিকার, দক্ষ কর্মী, ভিসা, জমির মালিকানা কিংবা বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে। এই বাস্তব সীমাবদ্ধতাগুলোই অঞ্চলের নকশা নির্ধারণ করা উচিত।
দশটি বিশ্বাসযোগ্য ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান সফলভাবে কার্যক্রম চালালে তারা দশটি সরকারি রোডশোর চেয়েও বেশি কার্যকর প্রচারক হয়ে উঠবে।
সবচেয়ে বড় সুযোগ হতে পারে ব্রিটিশ বিনিয়োগের নিজস্ব বহুমুখীকরণ
এফডিআই তথ্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণও দেখায়। বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিনিয়োগের পরিমাণ বড়, কিন্তু তা খাতগতভাবে কেন্দ্রীভূত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যভিত্তিক ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের এফডিআই স্টকের অর্ধেকেরও বেশি ব্যাংকিং খাতে ছিল।[১২]
এই কেন্দ্রীভবন বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায় ব্রিটেনের ঐতিহাসিক শক্তিকে প্রতিফলিত করে, যার মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও এইচএসবিসির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, তবে একই সঙ্গে বোঝায় যে দেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারীর খাতভিত্তিক বিস্তারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তাই সিলেটের উদ্যোগকে শুধু ‘আরও ব্রিটিশ এফডিআই’ আনার কৌশল হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, উন্নত সেবা, কৃষি-খাদ্য ও পেশাগত শিল্পে ব্রিটিশ বিনিয়োগ বহুমুখী করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
শুধু বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ঘোষণা তাড়ানোর চেয়ে এটি কৌশলগতভাবে বেশি যুক্তিসংগত। বিদেশি পুঁজি যখন সরবরাহকারী, দক্ষতা, প্রতিষ্ঠান ও অঞ্চলের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে তখনই একটি দেশ বেশি লাভবান হয়; সংকীর্ণ কয়েকটি খাতে জমা হলে নয়।
স্বীকৃতিকে এবার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে
ব্রিটিশ সিলেটিদের জন্য এই প্রস্তাবের আরও বিস্তৃত অর্থ আছে। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক সামাজিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে, কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে পূর্ণ মাত্রায় ব্যবহৃত হয়নি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই সম্প্রদায় সিলেটে বাড়ি, মসজিদ, স্কুল, দাতব্য কার্যক্রম ও পারিবারিক জীবিকা অর্থায়ন করেছে। কিন্তু তাঁদের পেশাগত ও বাণিজ্যিক সক্ষমতাকে বড় পরিসরে বিনিয়োগে রূপ দেওয়ার মতো স্বচ্ছ প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম খুব কমই দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের এখন যে রূপান্তর দরকার তা হলো: রেমিট্যান্স নীতি থেকে প্রবাসী পুঁজি নীতিতে; পুরস্কার থেকে প্রতিষ্ঠানে; আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা থেকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় এফডিআই উৎস হিসেবে ব্রিটেনের অবস্থান এমন একটি প্ল্যাটফর্মের অনুপস্থিতিকে আরও কঠিন প্রশ্নে পরিণত করে। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে পুঁজির মাধ্যমে আস্থা দেখাচ্ছে। সিলেটি প্রবাসীরা ইতোমধ্যে মানবিক সেতু তৈরি করে রেখেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সংস্কার করছে। ব্রিটেনও উদীয়মান বাজারের সঙ্গে আরও গভীর বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব চাইছে।
তাই প্রস্তাবটি ব্রিটেনের প্রতি নস্টালজিয়া বা সিলেটের জন্য বিশেষ অনুরোধের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। এটি বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার একটি যৌক্তিক সমন্বয়।
বাস্তবসম্মত প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে বৃহত্তর সিলেটে একটি ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ও উদ্ভাবন অঞ্চলের যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বিনিয়োগকারী বাজার-পরীক্ষা। এতে বিদ্যমান সাইট, বিমান ও সড়ক সংযোগ, ইউটিলিটি, পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা, শ্রমশক্তি এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি সম্ভাব্য ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীর প্রয়োজন পরীক্ষা করা উচিত। বাজার যদি প্রচলিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সমর্থন করে, সেটি নির্ধারণ করা হোক। যদি ছোট উদ্ভাবন জেলা বা পরস্পর সংযুক্ত কয়েকটি সাইট বেশি কার্যকর হয়, তবে সেই মডেল নেওয়া হোক।
ভৌত রূপের চেয়ে প্রতিষ্ঠান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে ব্রিটেন বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো: দেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ সম্পর্ক, ইউরোপে সবচেয়ে গভীর প্রবাসী সংযোগ এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি জীবনে সিলেটের অনন্য অবস্থানকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কৌশলে রূপ দেওয়ার মতো গুরুতর ব্যবস্থা এখনো কেন গড়ে ওঠেনি?
সিলেটে একটি ব্রিটিশ অর্থনৈতিক অঞ্চল ব্রিটেনকে উপহার হবে না। প্রবাসী সিলেটিদের প্রতিও এটি কোনো অনুগ্রহ হওয়া উচিত নয়। সঠিকভাবে নকশা করা হলে এটি হবে একটি বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বাংলাদেশ পাবে বিনিয়োগ, দক্ষতা ও অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ; ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান পাবে প্রতিযোগিতামূলক একটি ভিত্তি ও বর্ধনশীল বাজারে প্রবেশাধিকার; আর সিলেট পাবে রেমিট্যান্সনির্ভর সমৃদ্ধি থেকে উৎপাদনশীল, জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নের দিকে এগোনোর পথ।
প্রকৃত অর্থে ‘উইন-উইন’ অংশীদারত্ব দেখতে এমনই হবে।
Sources and notes
1. Bangladesh Bank, Foreign Direct Investment and External Debt, July-December 2025. At end-2025, total inward FDI stock was $20.061bn; UK stock was $3.219bn, representing 16.0% of the total, the largest share of any country. https://www.bb.org.bd/pub/halfyearly/fdisurvey/foreign%20direct%20investment%20and%20external%20debt.pdf
2. Bank of Scotland Trade Portal, Bangladesh: Foreign Direct Investment. The current market guide reports the UK as the largest contributor to Bangladesh’s FDI stock at roughly 17%, based on an earlier reporting period. https://www.bankofscotlandtrade.co.uk/en/market-potential/bangladesh/investment
3. Bangladesh Investment Development Authority, “UK to Boost Investment in Bangladesh’s Growth, Focusing on Education, Aviation and Renewable Energy”, 16 March 2025. BIDA described the UK as Bangladesh’s top source of FDI, with stock of $2.9bn in FY2023-24. https://bida.gov.bd/press-release/uk-to-boost-investment-in-bangladeshs-growth-focusing-on-education-aviation-and-renewable-energy
4. Bangladesh Sangbad Sangstha, “PM offers separate economic zone for British investors”, 28 January 2024. Sheikh Hasina offered to allocate a separate zone for British investors, noting country-specific land allocations for other investors. https://www.bssnews.net/news-flash/170429
5. A. K. M. Ahsan Ullah and Anabelle Ragsag, “Sylheti Diaspora in the United Kingdom: Exceptionalism or Contested Nationalism?”, Studies in Ethnicity and Nationalism, 2025; and related recent scholarship on the UK-Bangladesh diaspora. https://onlinelibrary.wiley.com/doi/10.1111/sena.70001
6. Bangladesh Investment Development Authority, “Joint 180-day plan unveiled for BIDA, BEZA, PPPA and MIDA”, 16 March 2026. https://bida.gov.bd/press-release/joint-180-day-plan-unveiled-for-bida-beza-pppa-and-mida
7. Invest Bangladesh / BIDA, “Invest Bangladesh to be Formed as Bangladesh’s Apex Investment Development Agency by Unifying BIDA, BEZA and PPPA”, 16 July 2026; parliamentary reporting also records the merger of investment-related bodies under the new law. https://investbangladesh.gov.bd/press-release/invest-bangladesh-to-be-formed-as-bangladeshs-apex-investment-development-agency-by-unifying-bida-beza-and-pppa
8. Bangladesh Sangbad Sangstha, “PM invites foreign investors, promises business-friendly environment”, 24 July 2026. https://www.bssnews.net/news-flash/408205
9. UK Government, “UK Trade Envoy visits Dhaka to strengthen two-way trade and economic ties”, 6 April 2026. The UK described itself as a leading development and investment partner of Bangladesh. https://www.gov.uk/government/news/uk-trade-envoy-visits-dhaka-to-strengthen-two-way-trade-and-economic-ties
10. UK Department for Business and Trade, Bangladesh: Trade and Investment Factsheet, 31 July 2026. Total bilateral trade in the four quarters to Q1 2026 was £4.5bn; UK exports were £700m, of which £414m were services. https://assets.publishing.service.gov.uk/media/6a69c4bf229c578debc1a7fb/bangladesh-trade-and-investment-factsheet-2026-07-31.pdf
11. UK Government, UK-Bangladesh Development Partnership Summary, July 2023. British International Investment was given an investment target of $455m in Bangladesh for 2022-26. https://www.gov.uk/government/publications/uk-bangladesh-development-partnership-summary/uk-bangladesh-development-partnership-summary-july-2023
12. The Business Standard, “At a glance: Countries with largest FDI stock in Bangladesh”, based on Bangladesh Bank data, 2025. It reported $1.7bn of UK FDI stock in banking, representing 53.6% of the UK total at that reporting point. https://www.tbsnews.net/infograph/numbers/glance-countries-largest-fdi-stock-bangladesh-1247876
© 2026 Groundwork. All rights reserved.
